মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল:
যথাযোগ্য মর্যাদা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। ভাষা শহীদদের স্মরণে পুরো উপজেলাজুড়ে ছিল শ্রদ্ধা, আবেগ আর প্রজন্মের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত আয়োজন।
দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা পরিষদের লাল শাপলা হলরুমে আলোচনা সভার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম বিল্লাহ, কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রিয়াদ মাহমুদ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিরাজ হোসেন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ আবু তাহের হেলাল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বসার হাওলাদার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান হাওলাদার, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান শেখ রেহান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, ডা. আতিয়ার রহমান ও সাংবাদিক মোঃ কামরুল হাসান, সরকারি কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন পাইলটের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবিবা সানজানা ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী অহনা তাসনিম আরাবি বক্তব্য রাখেন । প্রধান অতিথি ও আলোচকরা ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভাষার চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই ছিল না; এটি ছিল বাঙালির আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার বীজ রোপণের সূচনা। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আলোচনা সভা শেষে সুন্দর বাংলা হাতের লেখা, চিত্রাঙ্কন ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এর আগে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নীরবতা, শোক আর শ্রদ্ধার আবহে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়। মহান একুশের চেতনায় কোটালীপাড়ায় দিনব্যাপী আয়োজন প্রমাণ করেছে—বাংলা ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের আত্মার স্পন্দন, ইতিহাসের গর্ব ও জাতিসত্তার ভিত্তি।

