ঢাকাসোমবার , ১১ আগস্ট ২০২৫
  1. আমতলী
  2. কলাবাড়ি
  3. কান্দি
  4. কাশিয়ানী
  5. কুশলা
  6. কোটালীপাড়া
  7. খেলা
  8. গোপালগঞ্জ
  9. গোপালগঞ্জ সদর
  10. জাতীয়
  11. টুঙ্গিপাড়া
  12. পিঞ্জুরী
  13. পৌরসভা
  14. বঙ্গবন্ধু
  15. বান্ধাবাড়ি
আজকের সর্বশেষ খবর

কোটালীপাড়ায় অভাবের তাড়নায় গৃহবধুর আত্মহত্যা

Link Copied!

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় অভাবের তাড়নায়  গলায় ফাঁস দিয়ে মাসুদা খানম (৪০) নামের এক গৃহবধুর আত্মহত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার সকালে ওই গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মাসুদা খানম উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের লাখিরপাড় গ্রামের মাসুদ কাজীর স্ত্রী এবং চার সন্তানের জননী।

মাসুদা খানমের স্বামী মাসুদ কাজী বলেন, ভোর রাতে ছোট ছেলের কান্নায় ঘুম ভাঙ্গলে স্ত্রী মাসুদাকে ঘরে কোথাও খুঁজে না পেয়ে আশেপাশের ঘরে লোকদের নিয়ে খোঁজাখুজি করি। একপর্যায়ে পুকুর পাড়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পাই। থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, জমিজমা করতে গিয়ে এলাকার কিছু মহাজন ও এনজিওতে অনেক টাকা ঋনগ্রস্থ হয়ে পড়ি। বাড়ির জায়গা ও একমাত্র আয়ের মাধ্যম অটোভ্যানটি বিক্রি করে দিয়েও সুদের টাকা পরিশোধ না হওয়ায় আমার স্ত্রী কিছুদিন যাবত হতাশায় ভূগছিলেন। কয়েকদিন ধরে তিনি জ্বরে ভূগতেছিলেন। স্থানীয় ডাক্তার দেখিয়েছিলাম। তবে আমাদের ছেড়ে এভাবে চলে যাবে তা আমাদের ভাবনায় ছিলো না।

মাসুদা বান্ধাবাড়ি গ্রামের অজেদ তালুকদারের মেয়ে। প্রায় ২৫ বছর আগে লাখিরপাড় গ্রামে মাসুদ কাজীর সাথে তার বিয়ে হয়। তাদের ২ মেয়ে ও ২ ছেলে রয়েছে। ২ মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। মেহরাব কাজী নামের ১২ বছরের এক ছেলে স্থানীয় মান্দ্রা ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণিতে পড়ে। আরেক ছেলে ইমদাদ কাজীর বয়স ৫ বছর।

আজ দুপুরে সরেজমিন মাসুদা খানমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারে চলছে শোকের মাতম। ছোট ছেলে ইমদাদ কাজী বার বার মাকে খুঁজছে।

নিহত গৃহবধুর দেবরের স্ত্রী লাখি বেগম বলেন, দুই বছর আগে সুদে টাকা নিয়ে মাসুদার স্বামী মাসুদ কাজি ধান চাষ করলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে জমির সব ধান নষ্ট হয়ে যায়। সেই থেকে খুব অভাব অনাটনের মধ্যে সংসার চলতো মাসুদাদের। পরবর্তীতে কয়েকটি এনজিও থেকে ঋন ও জমি বিক্রি করে সুদের কিছু টাকা পরিশোধ করলেও দিন দিন সুদের টাকার পরিমান বাড়তে থাকে। কিছুদিন ধরে মাসুদাদের পরিবারের সকলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। একদিকে সুদের টাকার চাপ অন্যদিকে ঘরে কোনা টাকাপয়সা না থাকায় ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছিল না। এসব কারনে মানসিক যন্ত্রনায় হয়তো আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।

লাখিরপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন মোল্লা বলেন, মাসুদ কাজী ও মাসুদা খানম এক সময় ঢাকায় গার্মেন্টেসে চাকরি করতো । কয়েক বছর আগে গ্রামে চলে আসে। মাসুদ ভ্যান চালাতো । ২ বছর আগে সুদে টাকা নিয়ে জমিতে ধান লাগায়। ঝড় বন্যায় ধান নষ্ট হওয়ায় ওরা ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়ে।

নাম না প্রকাশের শর্তে মাসুদের এক প্রতিবেশি বলেন, গ্রামে সুদি মহাজনেরা গরীব মানুষদের ফাঁসাতে টাকা নিয়ে বসে থাকে। বিভিন্ন প্রকার সুদের প্রচলন রয়েছে এখানে। মাসিক, দৈনিক (কারেন্ট) ও সিজনাল সুদ রয়েছে। মাসিক সুদের হার শতকরা ১০ টাকা। কারেন্ট সুদ দৈনিক হিসেবে। এতে ১ হাজার টাকায় দৈনিক ২০ টাকা সুদ দিতে হয়। এছাড়া সিজনাল সুদ রয়েছে যা ধান লাগানোর আগে ১ হাজার টাকা নিলে ধান উঠলে ১ মন ধানসহ ১ হাজার টাকা দিতে হয়। এই সুদ বাণিজ্যের কারনে এই এলাকার অসহায় পরিবারগুলো সর্বশান্ত হয়ে যাচ্ছে।

কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এস আই) সুব্রত কুমার বলেন, গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়েছে। গলায় ফাঁসের চিহ্ন ছাড়া শরীরে কোথাও অন্য কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য  লাশ গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন,ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। তবে এ ব্যাপারে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।