ঢাকাশুক্রবার , ৩ জুলাই ২০২৬
  1. আমতলী
  2. কলাবাড়ি
  3. কান্দি
  4. কাশিয়ানী
  5. কুশলা
  6. কোটালীপাড়া
  7. খেলা
  8. গোপালগঞ্জ
  9. গোপালগঞ্জ সদর
  10. জাতীয়
  11. টুঙ্গিপাড়া
  12. পিঞ্জুরী
  13. পৌরসভা
  14. বঙ্গবন্ধু
  15. বান্ধাবাড়ি
আজকের সর্বশেষ খবর

ভূতুড়ে বিদ্যুৎবিলের ধাক্কা, লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা—দুই চাপে দিশেহারা কোটালীপাড়ার মানুষ

মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল
জুলাই ৩, ২০২৬ ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল: একদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং, অন্যদিকে মিটারের রিডিংয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিদ্যুৎ বিল। দুই দিকের এই চাপে দিশেহারা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার প্রায় ৭৩ হাজার পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা। মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশে বিল দেওয়ার পরও বিদ্যুৎ বিলের কাগজে বিল দেখানো হচ্ছে। জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল হাতে পাওয়ার পর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য গ্রাহক এসকল অভিযোগ নিয়ে ছুটছেন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে।

অভিযোগ উঠেছে, অনেক গ্রাহকের বিলে প্রকৃত ইউনিটের চেয়ে বেশি ইউনিট দেখিয়ে বিল তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি বকেয়া আদায়ের নামে অনিয়ম ও নগদ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, কোটালীপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুটি সাবস্টেশন ও ১০টি ফিডারের আওতায় প্রায় ৭৩ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছেন। তবে জুন মাসে অধিকাংশ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনেকের দাবি, গত মাসের তুলনায় দুই থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেশি বিল এসেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে বিলের কাগজে উল্লেখ করা মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বাস্তব রিডিংয়ের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

কোটালীপাড়া পৌরসভার বাগান উত্তরপাড়ার বাসিন্দা দিলিপ বাড়ৈ জানান, ১২ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ২৯০ ইউনিটে বিল করা হয় ২ হাজার ২২০ টাকা। পরবর্তী মাসে ৫৫০ ইউনিটের জন্য বিল হয় ৫ হাজার ১৮১ টাকা। আর ১৬ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ৮৮৫ ইউনিটে বিল করা হয়েছে ১২ হাজার ১৫৯ টাকা। মিটারে সমস্যা না কোথায় সমস্যা কিছুই বুঝতে পারছি না। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে বিল বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। একদিকে লোডশেডিংয়ের কারনে ঠিকমত বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। অন্যদিকে প্রকৃত ব্যবহারের তুলনায় অস্বাভাবিক বিল করে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ বলেন, মে-জুন মাসের বিলে ১০ জুন পর্যন্ত মিটারের রিডিং দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭৯৫ ইউনিট। অথচ ২৪ জুন বিল হাতে পাওয়ার পর মিটারে তিনি দেখতে পান রিডিং ৬ হাজার ৭৫৫ ইউনিট। অর্থাৎ বিলে মিটারের বর্তমান অবস্থার চেয়েও বেশি ইউনিট দেখানো হয়েছে। বিষয়টি জানালে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস অভিযোগ নিয়ে যেতে বলে।

বদরতলা গ্রামের জেমস বাড়ৈ বলেন, জুন মাসে তিন মাসের বকেয়াসহ বিদুৎ বিল এসেছে ৯ হাজার ২০১ টাকা। প্রতিমাসে মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করেছি। বিকাশের অনলাইন কপি নিয়ে অফিসে গেলে জানানো হয় সার্ভারে ভুল ছিল। আমরা মনেকরি এগুলো সব ধান্ধাবাজী। সকল গ্রাহক অভিযোগ নিয়ে আসবে না। এটাই তাদের মূল ধান্ধা। যেসকল গ্রাহক অভিযোগ জানাতে আসতে পারছে না। তাদের কাছ থেকে ভুতুরে বিল আদায় হচ্ছে। এই ধান্ধাবাজী বন্ধ করা উচিত।

আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় এনে গ্রাহকদের হয়রানি বন্ধ এবং বিদ্যুৎ সেবার মান উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনেক মিটার রিডার বাড়িতে না গিয়ে অনুমাননির্ভর রিডিং দিয়ে বিল প্রস্তুত করছেন। এছাড়া বকেয়া আদায়ের সময় কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রাহকের নগদ পরিশোধ করা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনায় প্রতিদিনই বিপাকে পড়ছেন গ্রাহকরা।

এদিকে তীব্র লোডশেডিং জনজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম ও গৃহস্থালির স্বাভাবিক কাজকর্ম। বিদ্যুৎ না থাকলেও বিল কমছে না, বরং অনেকের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে—এমন অভিযোগ এখন সর্বত্র।

এ বিষয়ে কোটালীপাড়া পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোঃ মফিজুল ইসলাম বলেন, জুন মাসের বিল নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিটার রিডিংয়ের কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। লোকবল সংকটের কারণে কিছু ক্ষেত্রে মিটারের কাছে না গিয়ে অনুমাননির্ভর রিডিং করা হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া জুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত গরমে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় অনেকের বিলও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাড়িতে বসে বিল সংগ্রহের নামে টাকা নিয়ে অফিসে জমা না দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো গ্রাহকের বিলে অসঙ্গতি থাকলে অফিসে অভিযোগ জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি জানান, কোটালীপাড়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১২ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না এবং বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।