মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল:
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থলকে সমগ্র বাঙালি জাতির পবিত্র তীর্থস্থান আখ্যা দিয়ে গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া–টুঙ্গিপাড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেছেন, “বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থল দর্শন করা প্রত্যেক বাঙালির জন্য সৌভাগ্যের বিষয়।”
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে টুঙ্গিপাড়ায় এসে বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থলে প্রার্থনা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থল দর্শন করা তার দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন। এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থান নয়, বরং সমগ্র বাঙালি জাতির আবেগ, বিশ্বাস ও প্রার্থনার কেন্দ্রস্থল। যারা বাংলা ভাষায় কথা বলে, বাংলা সংস্কৃতি ধারণ করে—প্রত্যেকেরই এখানে এসে শ্রদ্ধা জানানো ও দোয়া করার ইচ্ছা থাকে।
তিনি আরও বলেন, “বঙ্গবন্ধু না থাকলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। বঙ্গবন্ধু না থাকলে আজ যারা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সচিব, সেনাবাহিনী প্রধান, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান হচ্ছেন—তাদের কেউই এই অবস্থানে আসতে পারতেন না। এমনকি আমরা অনেকেই ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার হওয়ার সুযোগ পেতাম না।”
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের কারণেই আজ শুধু স্বাধীনতা নয়, বরং দেশের কোটি কোটি মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে। বাংলাদেশ আজ উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মর্যাদাসম্পন্ন জীবনযাপনের অধিকার অর্জন করেছে। যার কারণে আমরা এত বড় একটি অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি, তার সমাধিস্থল দর্শন করা সত্যিই সৌভাগ্যের ব্যাপার।
সমাধিস্থলে প্রবেশ প্রসঙ্গে তিনি জানান, দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ওসি মহোদয়ের অনুমতির কথা জানান। পরে ওসি সাহেবের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে সমাধিস্থলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে গেটের বাইরে দাঁড়িয়েই প্রার্থনা করেন তারা।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর দেশ এবং সমগ্র বাংলাদেশই বঙ্গবন্ধুর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচন করেছেন। সংসদ নির্বাচনে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ অংশ নিতে পারেন। ভোট দেওয়া বা না দেওয়া সম্পূর্ণ জনগণের সিদ্ধান্ত।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির প্রার্থী একেক সময় একেক বক্তব্য দিয়ে ভোটারদের নিরুৎসাহিত করছেন। কখনো হাতপাখার প্রার্থী, কখনো অন্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।
তিনি বলেন, “আমি মনে করি, এখানে মোট ৮ জন প্রার্থী রয়েছেন। সবাই একসাথে ভোট চাইব। মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে যাবে, যার যাকে ভালো লাগবে তাকেই ভোট দেবে।”
নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থী নানাভাবে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন এবং এককভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চান। তবে নির্বাচন নিয়ে তিনি শঙ্কিত নন বলে জানান।
তিনি বলেন, “প্রশাসন অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এখন পর্যন্ত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, চাই সকলের সঙ্গে সকলের সু–সম্পর্ক বজায় থাকুক। নির্বাচন ১২ তারিখে শেষ হবে।”
এসময় ড. গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের সঙ্গে তার কর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাধিতে প্রার্থনা শেষে টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে তার নির্বাচনী প্রতীক ঘোড়া মার্কায় ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণ করেন গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক।

