মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল: কোটালীপাড়ার সার্বিক উন্নয়নকে সামনে রেখে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া—দুই খাতেই সমান গুরুত্ব দিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছেন গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী। এ লক্ষ্যে গত রবিবার (৫ এপ্রিল) এস এম জিলানী সংস্কৃতি এবং যুব ও ক্রীড়া—দুই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।
সাক্ষাৎকালে কোটালীপাড়ার সার্বিক সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, শিল্প-সাহিত্য চর্চার প্রসার এবং সাংস্কৃতিক অবকাঠামো গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম-এর সঙ্গে গুরুত্বের সঙ্গে কথা হয় এস এম জিলানীর।
বিশেষভাবে একটি আধুনিক ও স্থায়ী শিল্পচর্চার কেন্দ্র হিসেবে শিল্পকলা একাডেমির নিজস্ব ভবন নির্মাণের বিষয়টি তুলে ধরেন সংসদ সদস্য এস এম জিলানী।
তিনি জানান, এ ধরনের একটি স্থাপনা নির্মিত হলে স্থানীয় শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও নতুন প্রজন্মের জন্য চর্চা, প্রশিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের সুযোগ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়াও, প্রখ্যাত কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের স্মৃতিকে ধারণ করে আয়োজিত ‘কবি সুকান্ত মেলা’কে আরও বর্ণাঢ্য ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। মেলাটিকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে নতুন কর্মসূচি গ্রহণ, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সাহিত্যসভা ও বিভিন্ন আয়োজন যুক্ত করার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। একই সাথে সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালনের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। যাতে তরুণ প্রজন্ম সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট হয়।
একই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার (৫ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এমপি এস এম জিলানী। সাক্ষাৎকালে কোটালীপাড়ার ক্রীড়া উন্নয়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া সংগঠনে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ, তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও টুর্নামেন্ট আয়োজন, এবং দীর্ঘদিন ধরে চলমান কোটালীপাড়ার মিনি স্টেডিয়ামের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা।
এ সময় কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী কোটালীপাড়ার ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখা সম্ভব, তাই এ খাতে সরকারের উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে।
সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেন, কোটালীপাড়াকে একটি আধুনিক ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া—দুই খাতেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সহযোগিতায় কোটালীপাড়ার তরুণ প্রজন্ম আরও এগিয়ে যাবে এবং এ অঞ্চল সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
স্থানীয়দের মতে, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ায় এমন সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কোটালীপাড়ার সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং নতুন প্রজন্মের জন্য উন্মুক্ত হবে সম্ভাবনার দুয়ার।

