মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল:
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে থেকে শুরু হওয়া এই সংকট ঈদের পরও অব্যাহত থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন মটরসাইকেল চালক, সাধারণ মানুষ এবং ঈদের ছুটিতে দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যক্তিরা। এদিকে জ্বালানি সংকটের কারণে উপজেলার সড়কগুলোতে মোটরসাইকেলের চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে উপজেলার একমাত্র পেট্রোল পাম্প ‘কাজী মন্টু ফিলিং স্টেশন’-এ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পে কোনো ধরনের জ্বালানি নেই। একের পর এক মোটরসাইকেল চালক এসে পেট্রোল ও অকটেন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ডিজেলের সরবরাহও বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাম্পের প্রবেশপথ রশি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, জ্বালানির অভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাজেও সময়মতো যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আশিক খান বলেন, “ঈদের ছুটিতে মোটরসাইকেলযোগে বাড়িতে এসেছি। কিন্তু এখন তেলের সংকটে আবার ঢাকায় ফিরতে পারছি না।”
উপজেলার তারাশী গ্রামের বাসিন্দা মাসুদুর রহমান বলেন, “পাম্পে পেট্রোল বা অকটেন না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল রেখে বাসে যাতায়াত করতে হচ্ছে।”
কাজী মন্টু ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সনজিত দে জানান, ঈদের আগে থেকেই তেলের সংকট চলছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর প্রায় ২ হাজার লিটার পেট্রোল সরবরাহ করা হয়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই শতাধিক মোটরসাইকেল পাম্পে ভিড় করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতি মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার তেল দেওয়া হয়। তবে বুধবার দুপুরের আগেই মজুদ শেষ হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, “ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে পাম্পের প্রবেশপথ বন্ধ রাখতে হয়েছে। আশা করছি, আগামী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে আবার পেট্রোল সরবরাহ আসবে। তবে বর্তমানে পেট্রোলের পাশাপাশি ডিজেল ও অকটেনেরও কোনো মজুদ নেই।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

