মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের মধ্যেও নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে কাজী মন্টু ফিলিং স্টেশন।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাবে অস্থির হয়ে উঠেছে বিশ্ব জ্বালানি বাজার। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কড়াকড়ির কারণে তেল সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও।
এমন পরিস্থিতিতে কোটালীপাড়ায় যখন তেলের জন্য হাহাকার, তখন সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে এই ফিলিং স্টেশনটি।
ধানের জমিতে সেচের জন্য ডিজেল নিতে আসা কৃষক লিটু মিয়া বলেন, “উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় কৃষি কাজ ও যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু এই পাম্পটি নিয়মিত তেল সরবরাহ করে আমাদের অনেকটা স্বস্তি দিয়েছে।”
মোটরসাইকেল চালক ও ব্যবসায়ী হারুন মিয়া জানান, “হঠাৎ করে সংকট দেখা দিলে দেশের অনেক নামীদামী পাম্পেও তেল পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু এখানে নির্দিষ্ট পরিমাণে হলেও তেল দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষক ও জরুরি সেবার যানবাহনকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় মানুষ এই পাম্পের প্রতি আস্থা রাখছে।”
মাহিন্দ্র চালক পান্না বলেন, আমরা ভাগ্যবান কোটালীপাড়ায় একটি পেট্রোল পাম্প আছে। পাম্পের মালিক কাজী অমিত মাহমুদ ভাইয়ের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। এই সংকটকালীন সময়ে তিনি নিজেও অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। রাতভর তিনি নিজে উপস্থিত থেকে সুশৃংখলভাবে তেল সরবরাহ করছেন। পাম্পে যতক্ষণ সময় তেল থাকে ততক্ষণ এই সরবরাহ করা হচ্ছে।
ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী কাজী অমিত মাহমুদ বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে অল্প করে হলেও তেল দিতে, যাতে কেউ পুরোপুরি বঞ্চিত না হয়। কোটালীপাড়ার জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
তেল সংকট মোকাবেলায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
তেল নিতে আসা অনেকেই জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ২০০ থেকে ৩০০ টাকার তেল পেলেও তারা সন্তুষ্ট—কারণ অনেক জায়গাতেই তেল মিলছে না। সেখানে এই সংকটকালে কাজী মন্টু ফিলিং স্টেশন কেবল একটি জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র নয়—বরং কোটালীপাড়াবাসীর কাছে এটি এখন আস্থা, ভরসা ও স্বস্তির আরেক নাম।

