ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১ জানুয়ারি ২০২৬
  1. আমতলী
  2. কলাবাড়ি
  3. কান্দি
  4. কাশিয়ানী
  5. কুশলা
  6. কোটালীপাড়া
  7. খেলা
  8. গোপালগঞ্জ
  9. গোপালগঞ্জ সদর
  10. জাতীয়
  11. টুঙ্গিপাড়া
  12. পিঞ্জুরী
  13. পৌরসভা
  14. বঙ্গবন্ধু
  15. বান্ধাবাড়ি
আজকের সর্বশেষ খবর

কোটালীপাড়ায় বই উৎসব না হলেও নতুন বই পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল
জানুয়ারি ১, ২০২৬ ৫:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বছরের প্রথম দিনে বই উৎসবের রঙিন আয়োজন না থাকলেও নতুন বই হাতে পেয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার খুদে শিক্ষার্থীরা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কারণে আনুষ্ঠানিক বই উৎসব অনুষ্ঠিত না হলেও বছরের প্রথম দিনে আজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে নির্ধারিত সময়েই নতুন পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে উপজেলার সব সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলায় প্রাথমিক স্তরের সব শিক্ষার্থী প্রথম দিনেই সম্পূর্ণ সেট বই পেলেও মাধ্যমিক স্তরে কেবল নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাই সব বিষয়ের বই হাতে পেয়েছে। অন্য শ্রেণির কিছু বিষয়ের বই এখনো বিদ্যালয়ে পৌঁছায়নি।

তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক। এ সময় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্তসহ শিক্ষা দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, “রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কারণে এ বছর উপজেলার কোথাও বই উৎসব আয়োজন করা হয়নি। তবে আমরা বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করে নিশ্চিত হচ্ছি, যেন সব শিক্ষার্থী সময়মতো নতুন বই পায়।”

বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই পেয়ে খুদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। তবে মাধ্যমিক স্তরের সব বিষয়ের বই একসঙ্গে না পাওয়ায় কিছু শিক্ষার্থী হতাশাও প্রকাশ করেছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্ত জানান, কোটালীপাড়া উপজেলায় ১৮৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৫৯টি বেসরকারি (কিন্ডারগার্টেন) প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৩ হাজার ১১৮ জন। চাহিদা অনুযায়ী সমপরিমাণ বই ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে।

তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিয়া জান্নাত রাইফা ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহসিনা নূর তুষ্টি জানায়, নতুন বই পেয়ে তারা খুবই আনন্দিত এবং শিগগিরই পড়াশোনা শুরু করবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক অধিকারী বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে সব শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত বই এসেছে। যারা উপস্থিত ছিল তাদের সবাইকে বই দেওয়া হয়েছে। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা আগামী রোববার বিদ্যালয়ে এসে বই সংগ্রহ করবে।

নতুন বই পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া সরকারের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ, যা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলবে।

কমলকুঁড়ি বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিসুর রহমান জানান, আজ শুধুমাত্র নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সব বিষয়ের বই পেয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ৬টি, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ৫টি এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ৩টি বিষয়ের বই পেয়েছে।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার জসীম উদ্দীন বলেন, নবম শ্রেণির সব বই ইতোমধ্যে এসেছে। অন্যান্য শ্রেণির কিছু বিষয়ের বই এখনো আসেনি। আশা করছি খুব দ্রুত বইগুলো হাতে পাওয়া যাবে এবং সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোতে বিতরণ করা হবে।