ঢাকাবুধবার , ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  1. আমতলী
  2. কলাবাড়ি
  3. কান্দি
  4. কাশিয়ানী
  5. কুশলা
  6. কোটালীপাড়া
  7. খেলা
  8. গোপালগঞ্জ
  9. গোপালগঞ্জ সদর
  10. জাতীয়
  11. টুঙ্গিপাড়া
  12. পিঞ্জুরী
  13. পৌরসভা
  14. বঙ্গবন্ধু
  15. বান্ধাবাড়ি
আজকের সর্বশেষ খবর

বাউল সংস্কৃতি বাঁচলেই বাঁচবে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ: গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক

মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল
জানুয়ারি ২৮, ২০২৬ ৪:০৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল:

বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব ও গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেছেন, বাউল সংস্কৃতি বাঁচলেই বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় এগিয়ে যাবে। বাউল সঙ্গীত হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য গড়ার কারিগর হিসেবে যুগ যুগ ধরে কাজ করে আসছে। বাউল সঙ্গীত কোনো একক ধর্মের নয়, এটি সকল মানুষের আত্মার গান, প্রাণের গান।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার জাঠিয়া বোচাই সাধুর আশ্রমে মহোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত বাউল উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, অতীতের দিনে সমাজে ধর্মীয় বিভাজন ছিল না। তখন বাউলরা অবাধে সারা দেশে ঘুরে বেড়াতে পারতেন। যতদিন বাংলার পথে-প্রান্তরে বাউলদের বিচরণ ছিল, ততদিন হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব বা বিদ্বেষ দেখা যায়নি। তিনি আরও বলেন, “বাউল দর্শন মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে শেখায়, ধর্মের দেয়াল টপকে মানবতার কথা বলে।”
দেশের বাউল সঙ্গীতের বর্তমান সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে সারা বাংলাদেশে বাউল সঙ্গীত অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছে। বিভিন্ন স্থানে বাউল গান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, বাউল শিল্পীদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনাও ঘটছে। একজন প্রখ্যাত বাউল শিল্পী এখনো কারাগারে বন্দি রয়েছেন, যা স্বাধীন সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য অশুভ বার্তা।
তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে সারাদেশে বাউল শিল্পীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করবো। বাউলদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে এবং সংসদে আইন প্রণয়ন করে ধর্মের নামে যারা বিভেদ সৃষ্টি করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে তারা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে।
জাঠিয়া বোচাই সাধুর আশ্রমের উন্নয়ন প্রসঙ্গে গোবিন্দ প্রামাণিক বলেন, নির্বাচিত হলে আমার প্রথম কাজ হবে এই আশ্রমে যাতায়াতের রাস্তাটি পাকা করা, যাতে ভক্তরা সহজেই এখানে আসতে পারেন। ঐতিহ্যবাহী এই আশ্রমটির সার্বিক উন্নয়ন করা হবে এবং সারা বাংলার বাউল শিল্পীরা যেন এখানে এসে বড় পরিসরে উৎসব আয়োজন করতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এটি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলার উন্নয়নের রূপকার শেখ হাসিনার পুণ্যভূমি। এই এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে এখন ঢাকা থেকে কোটালীপাড়ায় মাত্র দুই ঘণ্টায় আসা সম্ভব হচ্ছে। ঢাকার ভেতরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে যে সময় লাগে, তার চেয়েও কম সময়ে এখন কোটালীপাড়ায় পৌঁছানো যায়। এসব উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।
গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, আমরা এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই এবং জাতির জনকের এই পুণ্যভূমিকে হিন্দু বা মুসলমান সংস্কৃতির গণ্ডিতে না রেখে বাঙালি সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
উৎসব অনুষ্ঠানে আশ্রম কর্তৃপক্ষ, বাউল শিল্পী এবং সহস্রাধিক ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।