মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারেও বইছে ভোটের হাওয়া। লোহার গেট আর প্রহরার ভেতর থেকেও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন বন্দিরা। পোষ্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদানের জন্য গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারের ৩৩ জন কয়েদি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন।
কারাগার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, রেজিস্ট্রেশনের শেষ দিন পর্যন্ত গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে মোট ৭২৪ জন কয়েদি ছিলেন। এর মধ্যে ২২ জন নারী ও বাকিরা পুরুষ কয়েদি। তবে পোষ্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেন মাত্র ৩৩ জন। যার মধ্যে ২৮ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী কয়েদি রয়েছেন।
গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক শওকত হোসেন মিয়া জানান,
পোষ্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য রেজিস্ট্রেশন করা ৩৩ জন কয়েদির বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলাতেই। এখনো পর্যন্ত পোষ্টাল ব্যালট আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। ব্যালট পাওয়া মাত্রই কারাগারের ভেতরে ভোটগ্রহণের জন্য দুটি গোপন বুথ স্থাপন করা হবে, যাতে সুষ্ঠ ও গোপনভাবে ভোট প্রদান নিশ্চিত করা যায়।
তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারের ভেতরেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ জেলায় পোষ্টাল ভোটে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান সাংবাদিকদের বলেন, গোপালগঞ্জ জেলায় মোট ৯ হাজার ৯৯৮ জন ভোটার পোষ্টাল ভোট প্রদানের জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ৩৩ জন হলেন কারাবন্দি ভোটার।
কারাগারের লোহার প্রাচীরের ভেতর থেকেও ভোটাধিকার প্রয়োগের এই উদ্যোগকে অনেকেই দেখছেন গণতন্ত্রের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে। বন্দিত্ব জীবনের মধ্যেও যে নাগরিক অধিকার অক্ষুন্ন থাকে—গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারের এই ৩৩ কয়েদির অংশগ্রহণ সেটিরই বাস্তব প্রতিফলন।

